#আলোচ্য বিষয় Exorcism

আজ কথা বলবো exorcism নিয়ে। Exorcism বা বাংলায় বলতে গেলে " ভুত ঝাড়ানো "। এই exorcism নিয়ে একটা মোটামুটি ধারণা আমাদের প্রায় সকলেরই আছে.... কিভাবে ? - না হলিউডের বিভিন্ন হাড়কাঁপানো ভূতের সিনেমার দৌলতে। The Exorcist নামে ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় বহু আলোচিত, বিখ্যাত এবং বিতর্কিত সিনেমাটি, যেটা নাকি ছিল সত্যিকারেরই অভিশপ্ত। সিনেমায় দেখানো সেই টান টান উত্তেজনাপূর্ণ রুদ্ধশ্বাস exorcism এর দৃশ্যগুলো দেখে আমরা বারবার রোমাঞ্চিত হয়েছি, শিউরে উঠেছি। তবে না, আজ সিনেমা নিয়ে কথা বলবোনা, বরং বলবো এই exorcism নিয়ে actual facts এর ওপর। ----- বাস্তবে এই exorcism কেমন হয় ? সিনেমায় যেমন দেখানো হয় সেরকমই কী ? নাকি সেগুলো অতিরঞ্জিত ? তাহলে চলুন দেখে নিই :------

প্রথমেই বলি exorcism নিয়ে সিনেমায় যা দেখানো হয় সেগুলি আংশিক সত্য বা fact নির্ভর এবং সিংহভাগই নিঃসন্দেহে অতিরঞ্জিত, যা আমাদের মনোরঞ্জনের জন্য পরিচালক সেইভাবে দৃশ্যগুলির শুট করেন। বাস্তবের exorcism এর বিস্তর পার্থক্য রয়েছে তার সাথে। সেগুলো খানিকটা এরকম :----



◾️এই exorcism এর ঘটনা খুবই বিরল, মাত্র হাতেগোনা কিছু, অন্তত সিরিয়াস কেস বলতে যা বোঝায় তাই। সিনেমায় যেমন দেখানো হয় যে চার্চের বিশপকে গিয়ে বললেই তিনি ব্যাগপত্তর, ক্রস এবং holy water নিয়ে চলে আসেন exorcism এর জন্য, ব্যাপারটা আদতে মোটেই অতটা সহজ বা common নয়। এই exorcism এর জন্য বাস্তবে প্রথমে চার্চের কাছে আবেদন জানাতে হয়। সেই আবেদন পর্যালোচনা করে দেখেন চার্চের প্রধান রেভারেন্ড বিশপ মহোদয় বা আরো উচ্চ পদস্থ আর্চবিশপ। যদি তারা সেই আবেদনে proper যৌক্তিকতা দেখতে পান তবেই exorcism এর ছাড়পত্র মেলে, নতুবা নয়। অনেকক্ষেত্রে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে খোদ ভ্যাটিকানে আবেদন পাঠানো হয় যা খতিয়ে দেখেন পোপ স্বয়ং।

◾️ তবে এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে exorcism এর অনুমতি পেলেই যে চার্চের প্রতিনিধি বা বিশপ এসে exorcism শুরু করে দেবেন, তা কিন্তু মোটেই নয়। আসলে মূল পর্বে যাওয়ার আগে একটা বিস্তর লম্বা, ধৈর্য্যপূর্ণ এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিংয়ের ব্যাপার রয়েছে যার ওপর নির্ভর করে যে আদৌ ফাইনাল exorcism এ যাওয়া হবে কী না। এই খোঁজখবর বা সম্পূর্ণ অনুসন্ধানের কাজে মাসের পর মাস কেটে যেতে পারে। যেহেতু exorcism একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, তাই তার আগে যেসমস্ত ব্যাপার খতিয়ে দেখা হয় সেগুলি হল :

👉 শারীরিক চেক আপ : -

এই শারীরিক বা ফিজিওলোজিক্যাল চেক আপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। possessed ব্যক্তির প্রথমেই সম্পূর্ণ শরীরের MRI করা হয় এবং দেখা হয় যে তার কোথাও কোনোরকম শারীরিক গোলযোগ আছে কিনা। তারপর করা হয় EEG scanning এবং CT স্ক্যান, এতে করে দেখা হয় যে ঐ ব্যক্তির কোনো রকম chemical imbalance গত মস্তিস্কজনিত সমস্যা ( মূলত schizophrenia, amnesia বা sleep walking disorder ইত্যাদি ) আছে কিনা। তারপর আসে হৃদযন্ত্র ও রক্ত পরীক্ষা, এতে করে দেখা হয় যে সেই ব্যক্তির হৃদপিন্ড exorcism এর ধাক্কা সামলে নেওয়ার জন্য কতটা সক্ষম এবং তার কোনোরকম হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপজনিত কোনো সমস্যা আছে কিনা।

👉 সাইকোলজিক্যাল চেক আপ :-

সবশেষে, করা হয় সাইকোলোজিক্যাল কাউন্সিলিং কোনো অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্টর দ্বারা, এতে করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া হয় যে আদৌ ঐ ব্যক্তির কোনোরকম মানসিক ভারসাম্যতাজনিত সমস্যা আছে কিনা, তিনি বর্তমানে কতটা মানসিকভাবে সুস্থ, সেই ব্যক্তির কোনোরকম পূর্ববর্তী মানসিক রোগগ্রস্থতার হিস্ট্রি আছে কিনা অথবা তার কোনোরকম medication এর প্রয়োজন কিনা। এতগুলো ব্যাপারেই নিশ্চিত হয়ে, তারপর যাওয়া হয় পরবর্তী ধাপে।

👉 Environmental চেক আপ :-

সবশেষে করা হয় ভিক্টিমের বাসস্থানের আশেপাশের পরিবেশের খোঁজখবর বা যাচাই। এক্ষেত্রে, মূলত দেখা হয় সেই ব্যক্তির ঘরে কতটা হাওয়া বাতাস এবং আলো আসে, ঘরের পরিবেশ অতিরিক্ত দমবন্ধকর কিনা ( যা অনেকসময় মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে ), ঘরের বা পুরো বাড়ির মধ্যে কোথাও কোনো স্যাৎসেতে cold spot বা ড্যাম্প আছে কিনা অথবা কোথাও কোনো বিশেষ তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পট আছে কিনা। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য কখনো কখনো পরিবেশে
বিশেষ কোনো তড়িৎচুম্বকীয়বলয়ের বা ক্ষেত্রের কারণে তৈরী হওয়া ফ্লাকচুয়েশনের কারণে নানানরকম অলৌকিক ঘটনা যেমন ঘরের চেয়ার বা হালকা কোনো আসবাবপত্রের এদিক ওদিক নড়াচড়া হতে পারে। এটা যদিও খুব বিরল কিন্তু কোনো ভৌতিক ঘটনা নয়। কোনো অভিজ্ঞ টিম দ্বারা সেই চেক আপ করিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার পর মূল exorcism এর দিকে এগোনো হয়।

প্রসঙ্গত, উল্লেখযোগ্য demon বা শয়তান প্রেত বা অপদেবতাদের কার্যসিদ্ধির জন্য বা প্রতিহিংসা পূরণের জন্য মানবদেহের দরকার পড়ে। এবং বলা হয় যে, যেসমস্ত লোকেরা মানসিকদিক থেকে দুর্বল বা vulnerable এবং নাস্তিক তারাই মূলত possession এর ক্ষেত্রে সফট টার্গেট। এছাড়াও বলা হয় যদি কোনো ব্যক্তির জীবনে কর্মক্ষেত্রে বা পারিবারিক ক্ষেত্রে হতাশার থেকে মনে depression থাকে তারাও demonic possession এর জন্য vulnerable হতে পারেন । যখন কোনো অপদেবতা বা demon কাউকে possess করে, তখন সে প্রথমে নিজেকে প্রকাশ করেনা, চুপচাপ থাকে, কারণ ডেভিল বা শয়তান আড়ালে থাকতেই পছন্দ করে। সে প্রথমে ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তির মনের ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে, তাকে অস্থিরচিত্ত করে তোলে, মনে মনে তাকে দুর্বল করে দেয়, নানান রকম ভয়ের দুঃস্বপ্ন বা visions দেখাতে থাকে, তাকে অপকর্ম ও অপরাধমূলক কাজ করার জন্য ভেতর থেকে প্ররোচনা দিতে থাকে, সর্বোপরি ধীরে ধীরে তাকে ঈশ্বরের প্রতি ঘোর অবিশ্বাসী করে তোলে। তাই বাইবেলে সবসময় মানুষদেরকে তাদের লক্ষে অবিচল থাকতে এবং ঈশ্বরের প্রতি আস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

বলা হয় Demonic possession এর তিনটি স্তর রয়েছে :

১. Manifestation : এটি possession এর একদম প্রাথমিক পর্যায়, যেখানে মূলত লক্ষণগুলো পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। বলা হয়, এই পর্যায়ে demon কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে তার শিকার হিসাবে। তারপর ধীরে ধীরে তার মনের এবং মস্তিষ্কের ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এই পর্যায়ে নানান রকম অদ্ভুত changes দেখা যায় victim এর মধ্যে। সে মানসিক ভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে, অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, নানানরকম ভিশন বা দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অনেকসময়, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে নানারকম ক্ষতচিহ্ন, মাংস পচার লক্ষন বা রক্ত জমাট বেঁধে কালশিটে পড়া ছাপ আপনাআপনি প্রকট হয়ে উঠতে থাকে। বাড়িতে অশরীরী উপদ্রব বেড়ে যায়। ইত্যাদি ইত্যাদি।

২. Oppression : এটি দ্বিতীয় পর্যায়। একে withdrawal state ও বলা হয়ে থাকে। এই পর্যায়ে possession এর লক্ষণগুলির সাথে সাথে victim নিজের এবং পারিপার্শিক পরিস্থিতির ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়ে। সাধারণত, দেখা যায় সে মানুষের সাথে বা বাড়ির লোকেদের সাথে মেলামেশা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। দরজা জানলা বন্ধ কোনো ঘরে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। তার খিদে তৃষ্ণা সম্পূর্ণ লোপ পায়, তীব্র আলো, বিশেষত সূর্যের আলো সহ্য করতে পারেনা। ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তিটি উগ্র আর হিংস্র হয়ে উঠতে থাকে এবং সর্বোপরি পবিত্র cross দেখলেই বা প্রার্থনা শুনলেই মারাত্মকভাবে violent হয়ে ওঠে। বলা হয়, এই পর্যায়ে শয়তানের আত্মা সেই ব্যক্তির নিজস্ব আত্মাকে পুরোপুরিভাবে তার নিজের কব্জায় নিয়ে চলে আসে যার ফলে তার মানবিক গুণগুলো সমস্ত লোপ পায়।

৩. Possession : এটি তৃতীয় এবং ultimate পর্যায়। অর্থাৎ, এই পর্যায়ে ভিক্টিমের মধ্যে পুরোপুরিভাবে demon বা শয়তান বিরাজ করে। সে হয়ে ওঠে violent, অবাধ্য এবং অপ্রতিরোধ্য। Antichrist এর প্রতিনিধি হিসাবে সে কোনোরকম পবিত্র প্রার্থনা বা cross এর প্রতীককে সহ্য করতে পারেনা। এই পর্যায়ে সে তার পরিবার পরিজনদের বা প্রিয়জনদের আঘাত করতে বা তাদের হত্যা পর্যন্ত করতেও পিছপা হয়না। এবং এই পর্যায়ে পৌঁছে গেলেই তার exorcism এর প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

Video of the Day


Please subscribe to our youtube channel BHASKBAN


Video Embed by :Bhaskban

◾️কোনো ব্যক্তির মধ্যে exorcism এর আগে যে লক্ষনগুলি দেখে বিশপ বা priest নিশ্চিত হন যে সেই ব্যক্তি possessed হয়েছেন, সেগুলি অনেকটা এরকম :

👉 হঠাৎ করেই সেই আক্রান্ত ব্যক্তি যদি একইসময় এবং একইসাথে একটি বা একাধিক ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। যেমন, কোনো জার্মান ব্যক্তি হঠাৎ করেই যেন অদৃশ্য কারোর সাথে ঝরঝরে ল্যাটিন, গ্রীক এবং আসিরিয়ান ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন। এক্ষেত্রে, বলা ভালো ভাষাগুলি আধুনিক ভাষা বা প্রাচীন ভাষা যেকোনোই হতে পারে কিন্তু প্রত্যেকটা ভাষাই legitimate হতে হবে। বলা হয়, এরকমটা নাকি বহুক্ষেত্রেই বাস্তবে ঘটেছে এবং demonic possession এর এটা মূল লক্ষন বা বৈশিষ্ট। তবে হ্যাঁ, এখানেও ব্যাপার আছে.... ভাষাগুলি শোনার পর সেগুলোর সম্মন্ধে খোঁজখবর নেওয়া হয়, যে ঐ ব্যক্তি কোনোদিনও আগে সেই ভাষাগুলি শিখেছিল কিনা বা ব্যক্তিটির সেই ভাষাগুলো সমন্ধে কোনোরকম পূর্ববর্তী ধারণা আছে কিনা। এই ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে exorcism এ এগোনো হয়না। তবে সুস্পষ্ট উচ্চারণই এক্ষেত্রে গণ্য হবে কোনোরকম গোঙানি বা incoherent babbling এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবেনা।

👉 সেই possessed ব্যক্তি যদি হঠাৎ করেই সেই priest এর ব্যাপারে ভবিষদ্বাণী করতে শুরু করে। হ্যাঁ, এটাও অনেক লক্ষণের মধ্যে অন্যতম। বলা হয় যে, শয়তান বা demon মানুষের মনের কথা বা mental state কে অনুধাবন করতে পারে এবং তাদের সেইমতো চালিতও করতে পারে। এক্ষেত্রে, সেই demon, possessed ব্যক্তির মুখ দিয়ে সেই priest কে ভয় দেখানোর জন্য নানান রকম অপ্রিয় ভবিষদ্বাণী করতে শুরু করে বা অকথ্যভাবে শাপ শাপান্ত করতে থাকে। যেমন শোনা যায়, মিনেসোটায় একবার এরকমই এক exorcism চলাকালীন সেই demon আক্রান্ত ব্যক্তিটি priest কে ভয় দেখিয়েছিলেন যে সে যদি এই মুহূর্তেই exorcism না থামায় তাহলে সে তার স্ত্রী এবং পুত্রকে হত্যা করবে এবং তাকেও মরতে হবে। কিন্তু priest সেকথায় কান না দেওয়ায় পরক্ষনেই নাকি সেই demon তার মৃত ছোটভাইয়ের গলায় করুনস্বরে বলে ওঠে যে তার খুব কষ্ট হচ্ছে, তার দাদা মানে সেই priest তার বড়ভাই হয়ে কিভাবে তাকে এতটা কষ্ট দিতে পারছে ! ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ demon, exorcist এর মনকে ছলনার মাধ্যমে প্রভাবিত করার বা দুর্বল করে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করে। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে সেই তথ্যগুলো সব সঠিক হতে হবে এবং exclusive হতে হবে অর্থাৎ এমন ব্যক্তিগত তথ্য যেটা ঐ priest ছাড়া আর কারোর পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

👉 levitation : হ্যাঁ, এই levitation demon আক্রান্ত ব্যক্তিটির দ্বারা প্রদর্শিত চরম ক্ষমতার একটি নিদর্শন। এই পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এক লহমায় অসীম বল চলে আসে যে সে তার থেকে ওজনে দশগুন ভারী কোনো বস্তুকেও অবলীলায় একহাতে চাগিয়ে তুলে ফেলে বা সে বসে বসে জিনিসপত্র শুন্যে নিক্ষেপ করতে পারে ( যেমন ছোটোখাটো চেয়ার, ঝাড়বাতি বা ম্যান্টলপিস )। তবে এটা জেনুইন levitation কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য exorcism এ বসার আগে সেই ব্যক্তিটির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং নিশ্চিত করা হয় যে সে কোনো drug দ্বারা intoxicated কিনা, কারণ অনেকসময়ই কোনোরকম anabolic drug নিয়ে থাকলে গায়ে বল চলে আসাটা অস্বাভাবিক নয়। যদি দেখা যায় যে সেই levitation সত্যিই জেনুইন, তাহলে exorcism শুরুর পথে এগোনো হয়, কারণ at that point, সেই বিশপ বা priest পুরোমাত্রায় কনভিন্সড হয়ে যান যে সেটা যথাযথ possession।

অর্থাৎ বলাই যায় যে, exorcism এর পদ্ধতিটি কোনোভাবেই " চাপিয়ে দেওয়া " নয় বরং একশোভাগ নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রতিটা পদক্ষেপে বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া হয়, অবাঞ্চিত সমস্ত সম্ভাবনাকে ঝেড়ে ফেলতে। কোনো পদক্ষেপে যদি exorcist এর মনে হয় ভিক্টিমের medical assistance এর প্রয়োজন, তাহলে তাকে যথাযথভাবেই চিকিৎসকের হাতে সপেঁ দেওয়া হয়।

এগুলি ছাড়াও আরো অনেক বৈশিষ্ট আছে যেগুলো demonic possession এর রূপকে আরো প্রকট করে তোলে, সেগুলি হল :

👉 কোনো বদগন্ধ বিশেষত মাংস পচার গন্ধ ভেসে আসা

👉 Antichrist এর প্রতীক উল্টানো ক্রস দেখলে possessed ভিক্টিমের আনন্দে উচ্ছাসে ফেটে পড়া

👉 পবিত্র প্রার্থনা শুনলেই violent হয়ে ওঠা ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার আসি মূল exorcism এর ঘটনায়। সমস্ত দিক থেকে নিশ্চিত হওয়ার শুরু হয় exorcism। এই exorcism এর নিয়ম হল এটি এমন জায়গায় perform করতে হয়, যেখানে বেশি লোকসমাগম হয়না বা নিরিবিলি, যেখানে লোকের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়না। হতে পারে, সেটা কোনো পরিত্যক্ত চ্যাপেল বা চার্চ, তবে সবসময় সেরকম কোনো option হাতের কাছে না পাওয়া গেলে demon আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতেই তার ঘরে বা বাড়ির নীচের বেসমেন্টে এরকম কোনো জায়গায় exorcism করা হয়। কারণ মনে করা হয় বেশি লোকসমাগম হলে exorcism চলাকালীন অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে demon বা শয়তানের transference হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়, যা উপরি বিপদ ডেকে আনতে পারে। এখানে বলে রাখা ভালো exorcism করার ক্ষেত্রে যে rite বা আচারগুলি মানা হয় সেগুলি ১৬১৪ সালে পোপ পঞ্চম পল ( Paul the 5th ) দ্বারা প্রবর্তিত। পরে ১৯৯৯ সাল নাগাদ ভ্যাটিকান সেই rite টির কিছু সংশোধন করে নতুন rite নির্ধারণ করে বটে, কিন্তু এখনো সেই পুরোনো rite টিই বেশি ব্যবহৃত হয় এবং জনপ্রিয়। Rite টির মূলত তিনটি প্রধান উপজীব্য বিষয় রয়েছে :

১. Instructions বা নির্দেশাবলী

২. Exorcism of the demon

৩. Exorcism of Satan and fallen angels

তবে exorcism এর আগে যেই বিশপ বা priest, rite টি perform করবেন তার কিছু করণীয় থাকে। সেগুলি হল :

👉 যিনি exorcism করবেন, তার demonology র ওপর ভালোমতো জ্ঞান বা দখল থাকতে হবে। কারণ exorcism যখন করা হবে, তখন demon প্রতিমুহূর্তে নিজের চরিত্র পাল্টায় এবং সেই priest কে বিভ্রান্ত করার সবরকম চেষ্টা করে। প্রত্যেকটি demon এর প্রকারের জন্য আলাদা spell বা মন্ত্র এবং prayer রয়েছে, যেগুলো ঠিকঠাক ভাবে উচ্চারণের মাধ্যমেই সেই পার্টিকুলার demon কে বন্দী করা সম্ভব। তাই এই চিহ্নিতকরণের কাজটি ঠিকঠাকভাবে করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বলা বাহুল্য, যার জন্য exorcism করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা একান্ত আবশ্যকীয়।

👉 যেদিন exorcism করা হবে, সেদিন সকালে সেই priest কে ঈশ্বরের কাছে তার কর্মে সাফল্যলাভের জন্য বিশেষ প্রার্থনা বা mass করতে হয়।

👉 Exorcism এর দিন সাধারণত priest সারাদিনব্যাপী উপোস করে থাকেন এবং তার অধস্তন পুরোহিতরা বা গির্জার Nun রা তার মঙ্গলকামনায় সারাদিন প্রার্থনা করেন।

👉 Demon আক্রান্ত যদি কোনো মহিলা হন, তাহলে সেই priest এর assistant হিসাবে একজন nun থাকা আবশ্যক বা কোনো মহিলা যিনি ঐ আক্রান্তের আত্মীয়া।

👉 priest এর কাছে exorcism এর জন্য অন্যতম প্রধান দুটি হাতিয়ার Holy water এবং রুপোনির্মিত একটি ছোটো cross থাকা আবশ্যক।

👉 Priest এর পরিধানে থাকতে হবে ট্রাডিশনাল white surplice বা পায়ের কাফ পর্যন্ত লম্বা সাদা আঙরাখা বিশেষ এবং তার ওপর একটি হালকা purple রঙের স্টোল বা উত্তরীয়।

◾️এবার আসি exorcism এর steps বা পদ্ধতিতে :

Exorcism হল মূলত ঈশ্বরের কাছে করা বিভিন্ন পবিত্র প্রার্থনা, বিবৃতি এবং আবেদনের একটি সিরিজ বা ক্রম যা উচ্চারণের মাধ্যমে সেই possessed ব্যক্তির দেহ থেকে demon বা শয়তানকে ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। প্রথমেই, exorcist নিজের এবং সেখানে উপস্থিত সকলের ওপর মন্ত্রপড়া holy water ছিটিয়ে সবাইকে সুরক্ষা বন্ধনে বেঁধে ফেলেন। তারপর prayer উচ্চারণ করে exorcism রুমটিকে blessed করা হয় যাতে কোনো ভাবে তার দেওয়ালের মধ্য দিয়ে শয়তান ফাঁক খুঁজে পালাতে না পারে। তারপর holy water ছিটিয়ে possessed ব্যক্তিকেও অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে ফেলা হয় এবং priest তার মাথায় হাত রেখে প্রভু যীশু এবং মেরিকে স্মরণ করে তাকে blessed করেন এবং আঙ্গুল দিয়ে সেখানে Holy cross এর আঁক তৈরী করেন। বলা হয়, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সেই demon প্রচন্ড ভয়ানক ভাবে সেই priest কে অকথ্য শাপ শাপান্ত এবং তিরস্কার ও ভৎসনা করা শুরু করে ( blaspheming )।

এখানে মূলত দুটি ভিন্ন aspect এর ওপর নির্ভর করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমটিকে বলা হয় " imploring formula " যেখানে priest সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন সেই possessed ব্যক্তির দেহ থেকে demon কে তাড়ানোর জন্য। prayer টি হল :
" God, whose nature is ever merciful and forgiving, accept our prayer that this servant of yours, bound by the fetters of sin, may be pardoned by your loving kindness"

এবং দ্বিতীয়টিকে বলা হয় " imperative formula " যেখানে priest ঈশ্বরের নামে শপথ উচ্চারণ করে সরাসরি demon কে possessed ব্যক্তির দেহ ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ করে। সেই prayer টি হল :
"Depart, then, impious one, depart, accursed one, depart with all your deceits, for God has willed that man should be His temple"

এই সম্পূর্ণ exorcism কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয় :

◾️১. Pretense : এই পর্যায়ে demon বা শয়তান নিজের আসল পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করে এবং priest কে বিভ্রান্ত করার জন্য তার ছদ্ম স্বরূপ বা pseudo persona র মায়া বিস্তার করে।

◾️২. Breakpoint : অনেক সাধ্যসাধনার পর এই পর্যায়ে শয়তান তার আসল রূপ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। তবে এতো সহজেই সে হাল ছেড়ে দেয়না, অনবরত priest কে নানারকম অমঙ্গলজনক visions বা hallucinations দেখিয়ে তাকে exorcism থেকে বিরত করানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় সমানে।

◾️৩. Clash : এই পর্যায়টিই সবথেকে চরম, ভয়ানক এবং decisive। এই পর্যায়ে সরাসরি ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসাবে priest এবং demon এর মধ্যে দ্বন্দ্বযুদ্ধ চলে কে সেই possessed ব্যক্তির আত্মার ওপর অধিকার কায়েম করবে সেই নিয়ে। এই পর্যায়টিতে সেই demon সর্বাপেক্ষা মারাত্মক রূপ ধারণ করে, সে তার তরফ থেকে চরমতম প্রতিরোধ করে। যদি সে তাতেও সফল না হয়, তাহলে সে possessed ব্যক্তির চরমতম শারীরিক ক্ষতি করতে চেষ্টা করে, তাকে চোট আঘাত পাওয়ানোর মাধ্যমে। এমনকি সে priest কে পর্যন্ত violently আক্রমণ করতেও পিছপা হয়না। যদিও exorcism এর শুরুতেই priest, holy water ছিটিয়ে নিজেকে সুরক্ষায় বেঁধে নেন, তাও বেপরোয়া ও মরিয়া হয়ে ওঠা demon এর থেকে priest এরও বিপদের বা ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠা demon কে অবদমিত করার জন্য বারবার তার ওপর holy water ছিটিয়ে pray করা হয়। বলা হয় এই পর্যায়ে holy water, demon এর শরীরে ঠিক আগুনের ছ্যাকার মতো জ্বলুনির সৃষ্টি করে এবং খোঁচা খাওয়া আহত বাঘের মতোই সে ভয়ানক হয়ে ওঠে। তবে এই পর্যায়েও demon কূটনৈতিক চাতুর্যের পরিচয় দেয়, হিংস্র প্রতিরোধে কাজ না হলে, তখন সেই possessed ব্যক্তির গলা নকল করে যন্ত্রনাকাতর এবং করুন কাকুতি মিনতি ও অনুনয় বিনুনয় চালায় যাতে priest তার prayer থামিয়ে দেন। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ exorcist মাত্রই জানেন যে এসবই দুষ্টের ছলনা মাত্র।

◾️৪. Expulsion : এটিই exorcism এর সর্বশেষ ধাপ। এই পর্যায়ে শয়তান বা demon নতিস্বীকার করে ঈশ্বরের কাছে। এবং priest শয়তানের কাছে তার নাম জানতে চান। প্রসঙ্গত বলে রাখি, যতক্ষন না demon এর " নাম " জানা যাবে, ততক্ষন তাকে নরকে তার রাজ্যে ফেরত পাঠানো যায়না। এই প্রসঙ্গে " The Conjuring " এবং " The Conjuring 2" র শেষ দৃশ্যটা মনে পড়ে ? যেখানে Lorraine Warren শেষমেশ demon দের নাম জানতে পারেন " বেথশেবা " আর " ভ্যালাক ", যারফলে তিনি তাদের পুনরায় নরকে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হন ! .... এখানেও সেই একই ব্যাপার ঘটে। তবে demon ভাঙবে তবু মচকাবে না।

অনেকসময়, সেই demon কথার প্রসঙ্গ ঘোরানোর জন্য , priest কে নানাভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। এমনকি এও বলে থাকে যে সে যদি ঈশ্বরকে ছেড়ে শয়তানের শরণ নেয়, তাহলে সে এই জগতের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হয়ে উঠতে পারে। শোনা যায়, এরকমই কোনো এক exorcism ritual চলাকালীন demon, বিশপকে বলেছিলো, " I was standing at the Cross, I was there in the Bethlehem, I was there in the Nazi Germany. What do you want to know ? "। এই পরিস্থিতিতে একজন exorcist কে কখনোই demon এর সাথে অপ্রয়োজনীয় বা loose talking এ জড়ানো উচিত নয়। তার শুধুমাত্র তার নাম জানতে চাওয়ার প্রশ্নেই অবিচল থাকা উচিত। যদি সেই একগুঁয়ে demon তার পরেও তার নাম বলতে না চায়, তাহলে তার জন্য কিছু compelling spell নির্দিষ্ট করা আছে, যেগুলো উচ্চারণ করলে পরে demon তার নাম বলতে শেষমেশ একপ্রকার বাধ্য হয়।

...... ব্যস ! Demon এর নাম জানতে পারলেই কেল্লাফতে ! তার পর exorcist তাকে prayer এর মাধ্যমে condemn করে সিধা পাঠিয়ে দেন নরকে, তার নিজস্ব রাজ্যে। Exorcism এর পরিসমাপ্তি ঘটে।

তারপর ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তির জ্ঞান ফেরে এবং তিনি আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন। এরপর তার ওপর থেকে অশুভ প্রভাব সম্পূর্ণ কেটেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তাকে Holy Bible থেকে ঈশ্বরের প্রার্থনা রিডিং পড়তে বলা হয়। যদি তিনি সেটা নির্বিঘ্নে পুরোটা পাঠ করতে পারেন, তাহলেই সব সমস্যার মুক্তি অর্থাৎ তিনি পুরোপুরিভাবে possession মুক্ত হয়েছেন। তারপর ঈশ্বরের নামে শপথ নিয়ে priest তাকে bless করেন।

এই যে পুরো exorcism এর পদ্ধতিটি এখানে বর্ননা করা হল সেটা কিন্তু পুরোটাই একবারে বা একটানা করা হয়না। কারণ, তাহলে সেই প্রবল শারীরিক ধকলের ধাক্কা possessed ব্যক্তিটি নিতে পারবেন না, তার মৃত্যুও হতে পারে। তাই exorcism টি একদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি session এ break করে করে কমপ্লিট করা হয়। তবে একদিনে পুরো exorcism কমপ্লিট নাও হতে পারে। অনেকসময় খুব নাছোড়বান্দা আর একগুঁয়ে demon হলে পুরো পদ্ধতিটা দুদিন বা তিনদিনব্যাপীও ছোটো ছোটো session এ সম্পূর্ণ করা হয়ে থাকে। এমনকি কোনো কোনো exorcism এক সপ্তাহব্যাপী চলেছে বলেও শোনা যায়।

..................... তো এই ছিল exorcism কী এবং কিভাবে করা হয় তার একটা overall ধারণা। আশাকরি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

No comments

Powered by Blogger.