ভারতীয়দের সম্পর্কে আপনার মনোভাব কী?


একটা দেশ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি এক জাতি এক প্রাণ এক ধর্ম। কিন্তু ভারত এমন একটা দেশ যেখানে বহু জাতি বহু প্রাণ বহু ধর্ম। অনেকগুলো ডিএনএ এখানে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন দেশের জন্য।

বাঙালির তীক্ষ্ণ মগজে ওয়ালা ডিএনএ। বিহারির মারাত্মক পরিশ্রম করার ডিএনএ। গুজরাটির ব্যবসাদার ডিএনএ। মারাঠাদের লারকে লেঙ্গে ডিএনএ। তামিলদের ঐতিহ্য ধরে রাখার ডিএনএ। কেরালার মেধাবী ডিএনএ। পাঞ্জাবির যোদ্ধা ডিএনএ। গোরখাদের বিশ্বস্ত ডিএনএ। এই এত গুলো ডিএনএ ছাড়াও আরো বিভিন্ন জাতি আছে। তাদের প্রত্যেককেরই আছে জাতিগতভাবে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যুক্ত ডিএনএ।


Please subscribe to our youtube channel BHASKBAN


Video Embed by :Bhaskban


এই জাতগুলোর ডিএনএ কিন্তু মিলামেশা করেনি। বরঞ্চ সামাজিক ভাবে একে-অপরের সাথে দূরত্ব রেখে চলেছে। বাঙালি কিন্তু গুজরাটি কে বিয়ে করেনি। পাঞ্জাবির সাথে তামিলের বিয়ে হয় না। দু একটা লাভমেরেজের যদি উদাহরণ দেন, তাহলে সেগুলো একেবারে হাতে গোনা কয়েকটা ঘটনা। 137 কোটি ভারতবাসীর সাপেক্ষে।

এই ডএনএ গুলো যে একে অপরকে বন্ধু ভাবে এমনটাও কিন্তু নয়। শত্রু ভাবে এমনটাও নয়। খুব খুনসুটি করে নিজেদের মধ্যে। গুজরাটি ধোকলা খায় বলে আমরা ওদের কিপটে ধোকলা খোর বলি। বাঙালি মাছ খায় বলে ওরা আমাদের, শালা মাচ বা খোর বাঙালি বলে। উড়িয়াদেরকে উরে বলে খেপায় । আপনি জানলে অবাক হবেন যে নর্থইস্ট এর ভারতীয়দের একটা বিশেষ নাম দিয়ে এমন ভাবে খ্যাপানো হত যে আইন করে তাদের কে প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে, ভারতের অপরাধ সংহিতা অনুসারে তাদেরকে যদি ওই বিশেষ নামে এখন খ্যাপানো হয় তাহলে সেটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। মাড়োয়ারি কে মেরো বলে তার বাঙালি গুজরাটি উড়িয়া বন্ধুরাই খ্যাপায় কলকাতায় প্রকাশ্যে। সেও খেপে লাল হয়ে যায়। নন্দনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে "দেখ লেঙ্গে শালো কো, শালা মাছলি খোর বাঙালি"।

এ রকম চলে। আমাদের ভারতীয় সমাজে এরকমই চলে। এটা একজন জার্মান একজন ইতালিয়ান বা একজন বাংলাদেশী কোনদিন কল্পনা করতে পারবে না। আমরা কিন্তু এমনটাই করি।

কিন্তু আবার শচীন-সৌরভ ব্যাট হাতে ইডেনে খেলতে নামে তখন ওই গ্রুপ টাই একসাথে চিৎকার করে উঠে বলে, ইন্ডিয়া য়া য়া….. ইন্ডিয়া। ওই চিৎকারে সারা বিশ্ব কেপে যায়।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো যেদিন চন্দ্রযান 2 উৎক্ষেপণ করেছিল সেদিন ভারত উত্তাল হয়ে নাচছিল। যেদিন চন্দ্রযান 2 ল্যান্ডিং করতে পারেনি তখন গোটা ভারতের চোখের জল মিশে গিয়েছিল একসাথে। আমাদের গুজরাটি প্রধানমন্ত্রী কে জড়িয়ে ধরে তার পাঞ্জাবি চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় ইসরো চেয়ার ম্যান। টিভিতে তাই দেখে বাড়িতে বসে হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করলো আজাদ ভাই। রাত তিনটের সময় মিয়ার এরকম কান্না দেখে ভাবি জি তো ভয়ে অস্থির। হ্য আল্লাহ হিন্দুস্তান কো বাঁচালো।

প্রচুর ভেদাভেদ আমাদের মধ্যে আমরা নিয়মিত একে অপরের সাথে জাত তুলে খুনসুটি করি। কিন্তু এমন সময় যদি কেউ জন গণ মন গানটা গেয়ে ওঠে, পিন ড্রপ সইলেন্স।

আমরা এরকম, এরকমই আমরা। এরকমটাই থাকতে চাই। এরকমই থাকুক আজীবন এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য। বিভেদের মাঝে মিলন মহান।

এজন্যই তো সারা ভারত একসাথে বলে,

দুধ মঙ্গোগে তো খির দেঙ্গে

কাশ্মীর মাঙ্গোগে তো চির দেংগে।

এটাই ভারতের সাফল্য। কে আমাদের ভাঙতে চায়? সেকি প্রথম বিশ্বের দেশ না দ্বিতীয় বিশ্বের দেশ না তৃতীয় বিশ্বের দেশ? তাতে কিছু এসে যায় না। জাস্ট চির দেঞ্জ, বতান কা স্বয়াল হ্যায় ভাই।




No comments

Powered by Blogger.