আমাদের দেশে এখন টাকার অভাব। সরকার বেশি করে রুপির নোট ছাপালে কী হবে?



আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় ওরকম কিছুই করার দরকার নেই। পৃথিবী যদি আবার আগের মতন করোনা মুক্ত স্বাভাবিক এবং রাজনৈতিক ভাবে স্থির হয়ে যায় তাহলে 137 কোটি ভারতবাসী পরিশ্রম করে অর্থনৈতিক অবস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন। আর তাছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা শুধু ভারতের খারাপ হয় নি। গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক অবস্থা বেসামাল হয়ে গেছে ।সেখানে আমাদের গোটা পৃথিবীর সাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনামাফিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কৌশল খুজতে হবে। আমরা যখন নিজেদেরকে গ্লোবালাইজেশনের মধ্যে পুরপুরি ঢুকিয়ে ফেলেছে তখন এছাড়া আর আমাদের কাছে উপায় কি। ঠিক এই মুহূর্তে যেমন আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর ভরসা রাখছি সেরকমই আগামী দিনে বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের কিছু সামান্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন করতে হবে।

Please subscribe to our youtube channel BHASKBAN


 

তবে করোনা মুক্ত পৃথিবী দুই রকমের অবস্থায় পরতে পারে।

এক

করোনা ভারতের পক্ষে শাপে বরও হতে পারে। আমেরিকার উদ্দেশ্য মতন যদি চীন কোণঠাসা হয়ে যায়। চীন এবং আমেরিকার মধ্যে যদি ঠান্ডা যুদ্ধ চলতে থাকে, তাহলে পৃথিবীর সবথেকে বড় বাজারকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্বব্যাংকসহ বহু শিল্পপ্রধান দেশ গুলি ভারতের পাশে এসে দাঁড়াবে। চীনের মধ্যে থাকা বহু বহুজাতিক সংস্থা, ভারতে তাদের অফিস কারখানা ইত্যাদি করতে শুরু করবে। কারণ ভারতের কর্পোরেট ট্যাক্স এর হার অনেক কম, শ্রমিক মূল্য কম ইত্যাদি ইত্যাদি। দুই তিন বছরের জন্য একটু অর্থনৈতিক টানাটানি চলবে। সবকিছুই আবার দ্রুত ঠিকঠাক হয়ে যায়।

দুই

যদিও সব কিছু নির্ভর করছে এটা জানার ওপর যে, করোনা ভাইরাস মুক্ত পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থাটা ঠিক কিরকম আছে। এই মুহূর্তে, সেটা জানা নেই। প্রত্যেক ঘন্টায় আস কয়েক হাজার খবরের মাঝে এখনো পর্যন্ত আমরা আন্দাজও করতে পারছি না যে পৃথিবীর কতগুলো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রশক্তি ঠিকঠাক আছে। ইকিউডীয়া বা এরকম ছোট ছোট অনেকগুলো রাষ্ট্রের হয়তো রাষ্ট্রশক্তি বলে আর কিছু নেই। পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সত্যি কথা বলতে আমরা এই মুহূর্তে এটাও আন্দাজ করতে পারছিনা যে পৃথিবীর কতগুলো বহুজাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত টিকে আছে। গোটা পৃথিবীর কোন পরিষ্কার রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চিত্র আমাদের কাছে এখন নেই। লোকডাউনের মধ্যে এগুলো আন্দাজ করা সম্ভব নয়।

আড়াই

চীনের অর্থনৈতিক অবস্থা কিন্তু খুব বেশি খারাপ হয়নি সেটা আপনি ইয়েনের হিসেব দেখলেই বুঝতে পেরে যাবেন। ওদিকে ডলার যে খুব বেশি পড়ে গেছে তাও নয়। এবার আমেরিকা আর চীন যদি যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসে তাহলে তা ভারতের পক্ষে সর্বনাশ। আমেরিকা ভারতের কাছে মিলিটারি বেস চাইবে। আর ভারতকে যদি আমেরিকাকে আর্মি বেস বা ওরকম কিছু দিতে হয়, তাহলে যুদ্ধের মধ্যে না যেতে চাইলেও ভারত সরাসরি যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে যাবে। তখন আমাদের অবস্থা একেবারে নাজেহাল হয়ে যাবে।

সুতরাং আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে আমাদের কোন সিদ্ধান্তে আসা এই মুহূর্তে একেবারেই অনুচিত হবে।


No comments

Powered by Blogger.