ভাইরাস কাকে বলে?


ভাইরাস একটা ল্যাটিন শব্দ। ল্যাটিন ভাষায় ভাইরাস শব্দের অর্থ বিষ। ভাইরাস এক অদ্ভুত সত্তা। ভাইরাস কে ঠিক প্রাণীও বলা যায়না, আবার জড়পদার্থও বলা যায় না। ভাইরাস হলো প্রাণী ও জড় পদার্থের মাঝামাঝি একটা সত্তা। অন্যভাবে বলতে গেলে, জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি যদি কোন কিছু থেকে থাকে তাহলে তা ভাইরাস। জীবিত প্রাণীর দেহ কোষের মধ্যে ভাইরাস বসবাস করতে পারে এবং বংশ বিস্তার করে। আবার মৃতদেহের মধ্যেও ভাইরাস বসবাস করতে পারে এবং মৃতদেহটির জীবিত কোষের সাহায্য নিয়ে বংশবিস্তার করে। কিন্তু জীবিত কোষ ছাড়া ভাইরাস বংশবিস্তার করতে পারে না। ভাইরাস অকোষিয়। ভাইরাসের দেহ একটি ক্যপসিডের মধ্যে অবস্থিত ডি এন এ অথবা আর এন এ ও নিউক্লিয়ড দিয়েই সম্পূর্ণ। ক্যাপসিড ফ্যাট ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ভাইরাসের দেহের কোন নির্দিষ্ট গঠন নেই, ডিম্বাকার গোলাকার লম্বাটে আবার ব্যাঙ্গাচির মতন দেখতে ভাইরাসও পাওয়া গেছে। ভাইরাসের শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য, বলে কিছুই নেই। জীবিত কোষ এর বাইরে এরা জড় পদার্থ বা মৃতের মত আচরণ করে। ভাইরাস খাবার খায় না। আমাদের বিজ্ঞান ভাইরাসের গতিবিধি বুঝতে এখনো বেশ নাকানিচোবানি অবস্থায় রয়েছে। 
1576 সালে ক্যারোলাস ক্যাসিয়াস প্রথম ভাইরাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে একটা আভাস দেন। এর অনেক বছর পর 1796 সালে জেনার নামে এক বিজ্ঞানী বলেন যে, জলবসন্ত রোগটি ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। 1892 সালে রুশ বিজ্ঞানী ডিমিট্রি লোসিফোভিচ ইভানস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
আমাদের প্রকৃতিতে কোটি কোটি ভাইরাস বর্তমান। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হই। আমাদের শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সব সময় আমাদের সাহায্য করে ভাইরাসের আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য। তবে কিছু কিছু ভাইরাস কে শরীর প্রতিরোধ করতে অক্ষম হয় আর তখনই আমরা কোন না কোন ভাইরাল রোগে আক্রান্ত হয়ে পরি। কিছু ভাইরাস কে ঠেকানোর জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। যেমন স্মলপক্স ও পোলিওর মতো ভাইরাসের আক্রমণ আটকানোর জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে। কিন্তু সব ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধ করবার মতো ভ্যাকসিন বিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর প্রথম ভাইরাস প্রতিষেধক ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন।
ভাইরাস কে খালি চোখে দেখা যায় না। এমনকি সাধারণ মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমেও ভাইরাস কে দেখা সম্ভব নয়। ভাইরাস কে দেখার জন্য ব্যবহার করা হয় ইলেকট্রপন মাইক্রোস্কোপ। গাছপালা জীবজন্তু সবার মধ্যেই ভাইরাস ক্রমাগত রোগ ছড়িয়ে থাকে। বলতে পারেন বংশ রক্ষা করবার জন্য এটা তাদের বাধ্য হয়ে করতে হয়। বসন্ত, পোলিও, হাম এরকম বিভিন্ন রোগ ভাইরাসের কারণে হয়। এমনকি ক্যান্সারও একটা ভাইরাস। এইডস রোগ ভাইরাসের কারনেই হয়। আবার সম্প্রতি আমাদের বিশ্বের জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়া করোনা ভাইরাস আমাদের দেহে আক্রমণ করলে ফুসফুসের কোষগুলিকে দখল করে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। এই পৃথিবীতে খাদ্যশস্য নষ্ট করার জন্য ভাইরাসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। এক কথায় জীবের সব থেকে বড় শত্রু বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে যদি কেউ থেকে থাকে তা হল ভাইরাস।

No comments

Powered by Blogger.