বাতিল বাংলা, কেরল, মহারাষ্ট্র, বিহার : প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো বিতর্ক



এটা কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলা যেতেই পারে। বলাটা অত সহজ নয়। এমন হতে পারে গুণমানের বিচারে হয়ত ঐ ট্যাবলো গুলো যথোপযুক্ত ছিল না। তাই বাছাই কমিটি বাতিল করেছে ট্যাবলেটগুলো। 
হতে পারে, নরেন্দ্র মোদির অঙ্গুলিহেলনে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন কেন্দ্র সরকার; তাওবা কে বলতে পারে। 
সম্পূর্ণ বিষয়টি আপেক্ষিক। তবে এটা সত্যি যে এবারের 26 শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে থাকছে না বাংলা কেরালা মহারাষ্ট্র ও বিহারে ট্যাবলো। 
কেরলের আইনমন্ত্রী একে বালান বলেন, "প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে কেরলে ট্যাবলো বাদ দেওয়া পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরকম রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার এর আগে কোনদিন ভারত বর্ষ দেখিনি।"
মহারাষ্ট্রের ট্যাবলো প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে এনসিপি'র প্রধান শারদ পাওয়ার গর্জে ওঠেন টুইটারে। এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার টুইটারে লিখেছেন "প্রজাতন্ত্র দিবস সম্পূর্ণ দেশের অনুষ্ঠান। তাতে প্রত্যেক রাজ্যের যোগদান করার সমান অধিকার রয়েছে এবং কেন্দ্রের উচিত প্রত্যেক রাজ্যকে সমান মর্যাদা দেওয়া। কিন্তু এই কেন্দ্রীয় সরকার পক্ষপাতিত্ব করে চলেছে ক্রমাগত। বিরোধী দলের দখলে থাকা রাজ্য গুলির সঙ্গে করছে বিমাতৃসুলভ আচরণ। যা কখনোই কাম্য নয়।
এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া ইন্টারভিউতে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত এর বক্তব্য "কেন বাদ দেওয়া হলো তার জবাব দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখা। কি কারনে এমন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার তা আমাদের জানা আবশ্যক।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী তথা তৃণমূল দল নীতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় বাংলার ট্যাবলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।
মোটামুটি সমস্ত বিরোধী দলেরই বক্তব্য যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মহারাষ্ট্র কেরালা বাংলার বাদ দিয়েছে 26 শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গোলযোগ বিঁধেছে বিহার কে কেন্দ্র করে। কারণ জেডিইউ নেতা নীতীশ কুমারের বিহার বর্তমানে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের শরিক। তাই বিহারের ট্যাবলো কেন বাদ গেল সেই বিষয়ে কেবি বিশেষ যুক্তি দিতে পারছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য জি ডি ইউ এর সেকেন্ড পারসন প্রশান্ত কিশোর কে নিয়ে অসন্তোষের কারণে বিহারের বাদ গিয়েছে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ থেকে। প্রশান্ত কিশোর বর্তমানে জেডিইউ-এর সেকেন্ড কমান্ড হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী দলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে মোদি বিরোধী কার্যকলাপ করে চলেছেন। আর হয়তো এই কারণেই নিতিশ কুমারের বিহার বাদ।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটা খুব চিন্তার বিষয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য। তাই আশা করা যায় খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকার তার বক্তব্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করবেন।

No comments

Powered by Blogger.